৩০ হাজার কোটি কমিয়ে ২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমে বর্তমান বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মূল এডিপির তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ ছাঁটাই করা হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমে বর্তমান বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মূল এডিপির তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ ছাঁটাই করা হয়েছে।

আরএডিপিতে সরকারি তহবিল থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ১১ দশমিক ১১ শতাংশ এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা বা ১৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। বরাদ্দ কমলেও বরাবরের মতোই পাঁচটি খাতে রাখা হয়েছে মোট বরাদ্দের ৬০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি থেকে ৪৯ হাজার কোটি টাকা বাদ দিয়ে ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার আরএডিপি নির্ধারণ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশোধিত এ এডিপির অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব, বিভাগীয় প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ছিল মোট ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপির আকার হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকার। এক্ষেত্রে ২২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বরাদ্দ ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে এবং ৩৩টির বরাদ্দ ৩৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমেছে। তবে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনের প্রকল্পগুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আরএডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। ফলে সংশোধিত এডিপির বরাদ্দের জোগান হিসেবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের পরিমাণ ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা বা মোট বরাদ্দের ৬৪ শতাংশ। অন্যদিকে বৈদেশিক উৎস থেকে ৭২ হাজার কোটি টাকা বা ৩৬ শতাংশ। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে বিনিয়োগ খাতে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া সমীক্ষা খাতে ২৫১ কোটি, কারিগরি সহায়তায় ২ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা।

বরাদ্দ কমার বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাভাবিকভাবে বিনিয়োগ কম এসেছে। বিদেশী সাহায্য সংস্থার সহায়তা কম এসেছে। যার প্রভাব পড়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নে। এডিপির চলমান অনেক প্রকল্পের পরিচালক না থাকা, নতুন পরিচালক নিয়োগে বিলম্বসহ নানা কারণে বাস্তবায়ন কম হয়েছে। চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে মাত্র ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় হয়েছে প্রকল্পগুলোতে। এছাড়া মাসখানেক পরেই নির্বাচন। এসব বিষয় চিন্তা করেই এডিপির আকার ছোট করে আনা হয়েছে।’

বরাদ্দকৃত প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে পাঁচ খাতে। তার মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা (১৯.২৫ শতাংশ), বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি (১৩.০৯ শতাংশ), গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে ২২ হাজার ৭৩০, শিক্ষায় ১৮ হাজার ৫৫০ এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ১৫ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বা বিভাগে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগে। বিভাগটি ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা বা ১৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ১৮ দশমিক ৭৭, বিদ্যুৎ বিভাগে ৯ দশমিক ৯৭, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

বরাদ্দ কমার বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘সংশোধিত এডিপিতে সরকারি অর্থায়ন এবং বিদেশী ঋণ ও অনুদান—উভয় খাতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। আমাদের সময়ে প্রকল্পের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক সরকারের সময়ে প্রকল্পের হিড়িক লেগে যেত। যাচাই-বাছাই করে প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। অনেক মন্ত্রণালয় প্রকল্প প্রস্তাব পাঠাচ্ছে না। স্থানীয় সরকার বিভাগে বরাদ্দ বেশি রাখার কারণ হচ্ছে রাস্তাঘাট নির্মাণ করা, দারিদ্র্য লাঘবে তা ভূমিকা রাখবে।’

আরও